জ্ঞানীরা অন্য জ্ঞানীর সাহায্য নেয়, মূর্খরা নিজেকে যথেষ্ট মনে করে

ছোটবেলা যখন উর্দু পড়তাম, তখন দেখতাম ফারসি পড়ুয়া ছাত্ররা ওপরের জামাতের বড় ভাইদের কাছে গিয়ে ঘন্টায় ঘন্টায় বসে থাকতো। ঠিক বসে থাকতো না, তাদের থেকে পড়া বুঝে নিতো বা ‘হল’ করতো। তখন আমি ভাবতাম, আহ কবে ফার্সি পড়বো! আমি যখন ফার্সি পড়বো, আমিও বড় ভাইদের কাছে গিয়ে বসে থাকবো আর ছোট ভাইরা আমার দিকে তাকিয়ে থাকবে 🥰। 

তো যাইহোক, যখন ফার্সি পড়তাম তখন ক্লাসের ছাত্ররা দুই ভাগে বিভক্ত ছিলো। কিছু ছাত্র পড়া বোঝার ক্ষেত্রে বড় ভাইদের সাহায্য-সহযোগিতা নিতো। বড় ভাইরা তাদেরকে ফার্সির সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম বিষয়গুলো বুঝিয়ে দিতো। ফলে তারা ক্লাসে টপে থাকতো। আর বাকি ছাত্ররা নিজ নিজ কিতাব থেকে পড়া বোঝার চেষ্টা করতো। ক্লাসে ওস্তাদজি যতটুকু বলেছেন এর বাইরে তারা কিছুই জানতো না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্লাসে ওস্তাদজি যা বলেছেন সেটাও তারা উল্টোভাবে বুঝে আসতো।

এদিকে যারা বড় ভাইদের কাছে যেতো, তারা পাঠ্যপুস্তক ব্যতীত ফারসি ভাষার আরো ১০-১২ টি গ্রন্থ অধ্যয়ন করতো। আর বাকিরা অতিরিক্ত তো দূরের কথা পাঠ্যপুস্তকও ঠিকমতো আয়ত্ত করতে পারতো না। তবে মজার বিষয় হচ্ছে, যারা পড়া বোঝার ক্ষেত্রে বড় ভাইদের সাহায্য নিতো- তারা ছিলো সবল ও মেধাবী, আর যারা বড় ভাইদের সাহায্য নিতো না তারা ছিলো দুর্বল বা কম মেধার অধিকারী। 

শিক্ষা: যারা সবল ও মেধাবী- তারা ইমামগণ ও মাযহাবের সাহায্য নেয়। আর, যারা মেধাহীন ও দুর্বল- তারা নিজে নিজেই বোঝার চেষ্টা করে। আর নিজে নিজে বুঝতে গিয়েই দ্বিতীয় প্রকারের ছাত্রদের মতো ভুলভাল বুঝ অর্জন করে, এতে করে তাদের জ্ঞানটা অজ্ঞানে রূপ নেয়। আর কিছু জ্ঞান হলেও তা হয় অত্যন্ত সীমিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top