সুলতান মাহমুদ গজনবী কি মাজহাব পরিবর্তন করেছিলেন? —৩

সুলতান মাহমুদ গজনবীর হানাফী থেকে শাফে’ঈ হওয়ার কল্পকাহিনী —৩
১২. এই ঘটনা যদি সত্য হতো আর হানাফী মাযহাব যদি এতই ঠুনকো হতো যে দুই রাকাত সালাত দেখেই সুলতান হানাফী মাযহাব ত্যাগ করে শাফে’ঈ হয়ে গেছেন, তাহলে পৃথিবীতে সকল সত্যসন্ধানী রাজা-বাদশা, আলিম-উলামা হানাফী মাযহাব ত্যাগ করে শাফে’ঈ হয়ে যেতেন। কিন্তু যেহেতু এমনটা হয়নি- তবে কি তারা সত্য গ্রহণে অস্বীকারকারী ছিলো? কারণ, ইতিহাস থেকে জানা যায়, সকল রাজা-বাদশাহ হানাফী ছিলেন। ভারত উপমহাদেশে হাদীস শাস্ত্রের অন্যতম পুরোধা শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দেসে দেহলবী রহ. বলেন- “সকল শহরের আর সকল দেশের বাদশা ছিলো হানাফী। আর অধিকাংশ কাযী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষও ছিলো হানাফী”। (কালিমাতে তায়্যিবাত-১৭৭)
📗
ইতোমধ্যে আমরা প্রমাণ করে দিয়েছি যে কাহিনীটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা। তো এমন একটি মিথ্যা ও কল্পকাহিনীর উপর ভিত্তি করে ইতিহাস বদলে যায় না। অথচ কোথাও কোথাও লেখা দেখেছি, সুলতান মাহমুদ গজনবী হানাফী- পরবর্তীতে শাফে’ঈ- যা সম্পূর্ণ অন্যায় ও ইতিহাস বিকৃতির শামিল।
তার শাফে’ঈ হওয়ার ক্ষেত্রে এই কল্পকাহিনী ছাড়া দ্বিতীয় কোন ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। আমি বুঝি না মানুষ ইতিহাস না জেনেও কেন কলম ধরে!
📗
এই কল্পকাহিনীর পিছনে রহস্য কী?
যেহেতু দেশে দেশে হানাফীদের দাপট ছিলো বেশি ও অবস্থান ছিল উঁচুতে। আর অধিকাংশ রাজা বাদশাহই হানাফী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। এই কারণে শাফে’ঈ ও অন্যান্য মাযহাবীদের ভিতরে ব্যাপক অন্তর্জ্বালা ছিলো। কাজেই তারা এমনসব কল্পকাহিনী ও নোংরা প্রতারণার মাধ্যমে সুলতান মাহমুদ গজনবীকে শাফে’ঈ বানানো ও হানাফীদেরকে তুচ্ছ করার বৃথা চেষ্টা করেছে। যদি তাদের ভাগ্যে একজন সুলতান জুটে যায় এই আশায় আর কি!
আর যদি গায়ের জোরে ঘটনাটিকে সত্যও বলা হয়, তবুও এই ঘটনার মাধ্যমে হানাফীদের বিরুদ্ধে শাফে’ঈদের নোংরামো ও প্রতারণা সুস্পষ্ট। আর এই নোংরামো ও প্রতারণাটাও হানাফীদেরকে পঁচানোর জন্য। বেচারা শাফে’ঈগণ! হানাফীদের মতো ফিকহী গবেষণা করলে এমন লজ্জাজনক নোংরামি ও প্রতারণা করতে হতো না।
📗
অবশেষে একটা কথাই বলি- ইতিহাসে এমন বহু আজগুবি কল্পকাহিনী প্রচলিত রয়েছে- যা তারা হানাফীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে, তারা ফিকহী যোগ্যতায় বহু পেছনে থাকলেও ইতিহাস ও রিজাল শাস্ত্রের নাম দিয়ে হানাফীদের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্রই করেছে। বেছে বেছে হানাফী উলামাদেরকে য’ঈফ সাব্যস্ত করেছে। 
হানাফীদের মধ্যে এমন বহু রাবী এমন রয়েছে যাদেরকে কেবল ইমাম আবু হানিফার অনুসারী হওয়ার কারণে য’ঈফ সাব্যস্ত করা হয়েছে। আহমদ বিন হাম্বল তো ইমাম আবু ইউসুফকে কেবল এই কারণেই য’ঈফ বলেছে যে তিনি ইমাম আবু হানীফার সাথী। বুঝেন তাহলে অবস্থা। 
আর কোনোই কারণ নেই, কেবল একটা মাত্র কারণ, তিনি আবু হানীফার সাথী। ইমাম আবু হানীফার সাথিদের প্রতি যাদের এতো এলার্জি, খোদ ইমাম আবু হানিফার প্রতি তাদের কতো এলার্জি হবে ভেবে দেখুন। অথচ কিছু বেকুবের দল ঐ সমস্ত হিংসুক ইমামদের ক্বওল উলামায়ে আহনাফের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে। 
📗
হানাফিদের বিরুদ্ধে তাদের হিংসার লেভেলটা কতো তা বুঝতে সে সময়ের কথাটা কল্পনা করুন, যখন শাফে’ঈ ফকীহ আবু বকর আল-ক্বাফফাল তাশাহহুদ পড়ে লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে নির্লজ্জের মতো উচ্চস্বরে পাদ মেরেছে। এর থেকেই হানাফিদের বিরুদ্ধে তাদের নোংরামিটা বুঝে আসবে।
[দ্বিতীয় কিস্তি আসবে]
লুবাব হাসান সাফওয়ান

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top